বাক্‌ ১৪৯ ।। উম্মে হাবীবা

 

১)

নদী উঠে আসছে আপনার আঙুলে 

সাঁতারু পানকৌড়ি জানে না

জলের অতলে যেসব মানুষ যুদ্ধ করে 

তারা সকলেই শরনার্থী 

আমার নাম তাদের তালিকায় নেই

আমার জন্য রেশন কার্ড নেই

 

 

রোজ রাতে না খেয়ে ঘুমুতে যাই 

আমি সাথে আমার সবকটি পাহাড় 

শীত এসে ডাকে নদী এসে ডাকে

আমরা সাড়া দিই না

আমাদের নিঃশ্বাস গলে জল হয়

আমাদের ক্ষুধা লাল কাঁকড়ার সাথে

হুটোপুটি খায় নির্জন চরে

 

 

আপনার আঙুলের ছায়া বেয়ে

নদী চিনে নিতে চায় আমাদের ক্ষুধা

বিনম্র ঢেউয়ে চেপে পার হয়ে যেতে চায়

সমগ্র শরনার্থী শিবির।

 

 

 

২)

 

উত্থিত পুরুষ চিহ্নের কাছে 

মস্তক নুয়ে রেখেছি

উরু হারিয়ে এসেছি জানলেই

মুখ হাঁ করে গলিয়ে দেবে জবরদস্তি

উগরে দেবো নাকি গিলে ফেলবো

ভাবতে সময় দেবে আধ মিনিট

 

হায় আমার নত হওয়া মস্তক

কদলী বৃক্ষের মতো উরু দ্বয়

তোমাদের জন্যই ছুটে আসে সর্বনাশ

পসরা সাজিয়ে অভিবাদন জানায়

সোল্লাসে বলে জয় উত্থিত শিশ্নের জয়

জয় পুরুষের জয়।

 

৩)

 

যোনি লিখছি

আপনি পড়ুন নোদি-ই-ই-ই..

আবারও পড়ুন নদী নদী নদী 

টলটলে জল তিরতির ঢেউয়ের

ছোট্ট অগভীর নদী

তাতে ছোট ছোট মাছের গায়ে

রোদের মতো চকচকে আঁশ

ছলকে ছলকে লাফিয়ে লাফিয়ে 

ঢেউয়ের সাথে খেলছে মাছগুলো 

 

যোনি লিখেছি আমি

আপনি নদী পড়ুন নদী নদী .....

একপাশে পলি পড়ে সোনার ফসল

হেসে হেসে ঢলাঢলি করছে

অন্যদিকে বিস্তৃত খোলা মাঠ 

তাতে শৈশব কৈশোর একসাথে

'আয় তবে সহচরী' নাচছে

 

যোনি আমি আবারও লিখছি

আপনি এবারও উচ্চারণ করুন 

নদী শুধু নদী নদী নদী নদীই।

 


No comments:

Post a Comment